যুদ্ধের অনিশ্চয়তার মাঝেও ৯০ শতাংশের বেশি দর বেড়েছে চার কোম্পানির

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা ও ইরানের পাল্টা হামলায় প্রায় এক মাস ধরে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা বৈশ্বিক পুঁজিবাজারে চাপ সৃষ্টি করেছে।

এর প্রভাবে বাংলাদেশেও পুঁজিবাজারে সূচক ও লেনদেন কমেছে। বিনিয়োগকারীদের আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এর মাঝেও এ মাসের শুরু থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর ৯০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। কোম্পানিগুলোর আলোচ্য সময়ের দর পর্যালোচনায় এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্যানুসারে, যুদ্ধের অনিশ্চয়তার মাঝেও ৯০ শতাংশের বেশি দরবৃদ্ধি পাওয়া চার কোম্পানির মধ্যে রয়েছে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড, প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স লিমিটেড, পিপলস লিজিং ফাইন্যান্স অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড ও ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড। এছাড়া এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের শেয়ারদর প্রায় ৯০ শতাংশ বেড়েছে।

এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আটটিসহ মোট নয়টি ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে (এনবিএফআই) অবসায়নের অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। আমানতকারীকে অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠান অবসায়নের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। অনেক আমানতকারী স্কিমের মেয়াদ পূর্তি হওয়ার পরও প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে টাকা ফেরত পাচ্ছেন না। এনবিএফআই খাতের মোট খেলাপি ঋণের ৫২ শতাংশই এ নয় প্রতিষ্ঠানের। যুদ্ধকালীন অনিশ্চয়তার মাঝেও দরবৃদ্ধি পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোও সেই তালিকায় রয়েছে।

যদিও পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ভালো কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর এ সময়ে কমেছে। কিছু কোম্পানি মুনাফা কমার ব্যাপারে বিনিয়োগকারীদের আগাম সতর্কবার্তা দিয়েছে। বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, যখন ভালো ও মুনাফাযোগ্য কোম্পানির শেয়ারদর কমছে, তখন অবসায়নমুখী এসব প্রতিষ্ঠানের এমন অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি বাজার কারসাজির কারণে হতে পাের।

দরবৃদ্ধি পাওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের সবচেয়ে বেশি ১১৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ দর বেড়েছে। এ মাসের শুরুতে কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ১ টাকা ৬০ পয়সা, ২৫ মার্চ শেষে যা দাঁড়িয়েছে ৩ টাকা ৫০ পয়সায়। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ দর বেড়েছে প্রিমিয়ার লিজিংয়ের। এ মাসের শুরুতে কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ১ টাকা ৮০ পয়সা, ২৫ মার্চ শেষে যা দাঁড়িয়েছে ৩ টাকা ৬০ পয়সায়।

যৌথভাবে তৃতীয় সর্বোচ্চ ফারইস্ট ফাইন্যান্স ও পিপলস লিজিংয়ের শেয়ারদর ৯৪ দশমিক ১২ শতাংশ করে বেড়েছে। এ মাসের শুরুতে কোম্পানি দুটির শেয়ারদর ছিল ১ টাকা ৭০ পয়সা, ২৫ মার্চ শেষে যা দাঁড়িয়েছে ৩ টাকা ৩০ পয়সায়।

এছাড়া এফএএস ফাইন্যান্সের দর এ সময়ে ৮৮ দশমিক ২৩ শতাংশ বেড়েছে। এ মাসের শুরুতে কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ১ টাকা ৮০ পয়সা, ২৫ মার্চ শেষে যা দাঁড়িয়েছে ৩ টাকা ৬০ পয়সায়।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্থনীতির সার্বিক মন্দাবস্থার কারণে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ২০২৫ সালে একটি কঠিন সংকট ও চ্যালেঞ্জপূর্ণ সময় অতিক্রম করেছে। গত বছর বাংলাদেশ ব্যাংক দুর্বল ২০টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে, যার মধ্যে নয়টিকে অবসায়নের অনুমোদন দিয়েছে। একটি খাতের বহু প্রতিষ্ঠান একযোগে এমন রূপান্তর বা পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে গেলে স্বাভাবিকভাবেই পুরো খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

আরও